করাপশন টক
শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাণিজ্য মেলার তৃতীয় দিন, শীতে নেই ক্রেতা

editor
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার তৃতীয় দিনে ক্রেতা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও বেচাকেনা ছিল খুবই কম। তীব্র শীতের কারণে জবুথবু ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। চারদিকে খোলামেলা মেলা যেন হিমশীতল হয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীতে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের যেন জবুথবু অবস্থা।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ৩০তম আসরে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, ভিশন, আরএফএলসহ দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়েছে বসেছে স্টলগুলোতে।

মেলার তৃতীয় দিন হওয়া সত্ত্বেও এখনো তেমন জমে উঠেনি। তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী দিন যত যাবে, মেলার প্রচার-প্রচারণা যত বেশি হবে ক্রেতা সমাগম বেশি ঘটবে এবং বেচাকেনা ও ভালো হবে। ক্রেতা দর্শনার্থীদের অভিযোগ বাণিজ্য মেলার ভেতরে মার্কেটের থেকেও জুতা ব্লেজার বেডশিটসহ বিভিন্ন পণ্যে বেশি দামে ট্যাগ ঝোলানো হয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর বাণিজ্য মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন পূর্বাচল উপশহরের ৪নং সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার আগে থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছি। এ কারণে আগে থেকেই স্টল বরাদ্দ পেয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পেরেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হওয়ায় মেলার ৯০ ভাগ স্টল নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে মেলা শুরু আগেই। বাকি দশ ভাগ সৌন্দর্য বর্ধন ও সাজসজ্জাসহ পণ্য ডিসপ্লের কাজ চলছে বর্তমানে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এবারের বাণিজ্য মেলা সেজেছে বর্ণিল সাজে। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে স্টলগুলো সোডিয়ামের লাল, নীল, হলুদ বাতিতে আলোকসজ্জা করেছে। মেলায় বিভিন্ন দেশি, বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, কাপড়, জুতা, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিক্স ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। এদিন মেলায় বেশি ভিড় দেখা গেছে আইসক্রিম, কাপড় ও গৃহস্থালি দোকানে।

বাণিজ্য মেলা স্টল নিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম প্রথম মেলায় ক্রেতার থেকে দর্শনার্থী সমাগমে বেশি ঘটে। তারা এক স্টল থেকে আরেক স্টল ঘুরে ঘুরে পণ্য মান যাচাই করে। দফায় দফায় এসে দরদাম ঠিক করে। মেলার শেষভাগে যখন ডিসকাউন্ট বা বিভিন্ন অফার দেওয়া হয় সে সময় মূলত ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্যটি ক্রয় করেন। এবারও একইভাবে দর্শনার্থীরা মেলায় ঘোরাফেরা করেই বাড়িতে চলে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, এবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আগে থেকে স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় সিংহভাগ দোকান আগেভাগেই নির্মাণ কাজ শেষ করে ফেলেছে। তবে দর্শনার্থী থাকার পরও তাদের বেচাকেনা তেমন ভাল হচ্ছে না। বিকিকিনি কম হাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন তীব্র শীত।

পণ্যের গায়ে মূল্য বাড়িয়ে ট্যাগ লাগানোর ব্যাপারে তারা বলেন, আমরা এত এত টাকা দিয়ে মেলার ভেতরে দোকান বরাদ্দ নিয়েছি। যদি কিছু টাকা বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি না করি তাহলে আমাদের অনেক লোকসান হবে।

জুতা ব্যবসায়ীর সাব্বির হোসেন জানান, শীতের কারণে মেলায় দর্শনার্থীর কিছুটা কম। যেসব দর্শনার্থীই আসছে তারাও পণ্য না কিনেই চলে যাচ্ছে।

কথা হয় মেলায় ঘুরতে আসা রাজধানীর বাসা বা এলাকার বাসিন্দা ও ফরাজী হোসেন ও তার স্ত্রীর রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। এই দম্পতি জানান, তাদের ঘরের জন্য কিছু ফার্নিচার কেনা হবে। ফার্নিচার পছন্দ করার জন্যই আজ মেলায় এসেছেন। তিন চারটি শোরুম ঘুরে পছন্দের ফার্নিচারটি দেখে দাম দস্তুর করেছেন;কিন্তু ফার্নিচার কোম্পানিগুলো বাজেটের থেকে বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। তাই তারা মেলার শেষ দিকে অপেক্ষা করবেন। যেসব কোম্পানি বেশি ছাড় দিবেন তাদের পণ্য ক্রয় করবেন।

ফার্নিচার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজিদ আহমেদ বলেন, মেলায় মানুষ কেনার চেয়ে বেশি দেখতে আসেন। তীব্র শীত ও মেলা শুরুর দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকে। দিন যত যাবে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

কাশ্মীরি চাদর ব্যবসায়ী আযান মিয়া বলেন, অন্যবারের চেয়ে পূর্বাচলের মেলার অনেক বেশি গুছানো হয়েছে। এবার শুরু থেকেই বেশিরভাগ স্টল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি দর্শনার্থী আস্তে আস্তে আরও বাড়বে।

ক্রেতা মোহাম্মদ বিপ্লব বলেন, মেলা ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেখছি পছন্দ হলে কেনাকাটা করব। মেলার শেষের দিকে পণ্যে বিশেষ মূল্য ছাড় দেওয়া হয়, তখন পণ্য সামগ্রী কেনাকাটার টার্গেট রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি স্টল এখনো বিক্রি হয়নি। আশা করছি চলতি সপ্তাহে এসব স্টল বিক্রি হয়ে যাবে। মেলায় ১০ থেক ১৫ তারিখের মধ্যে আরো জমজমাট হবে বলে আশা করছি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারে আল মেহেদী জানান, মেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্য মেলায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার প্রায় সাড়ে ৮শ পুলিশ সদস্য পালাক্রমে দিনরাত নিরাপত্তা নিশ্চিত এ কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।