পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে; শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। অপশাসন থেকে মুক্তি চাইলে জনগণকে সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে গণভোটের পক্ষে প্রচার ও ভোটাদের উদ্বুদ্ধকরণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাকে সীমিত করতে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। এ সময়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনও ফিরে না আসে, সেজন্য সংস্কার জরুরি। কোনো রাজনৈতিক দল যেন স্বেচ্ছাচারী না হতে পারে, এজন্য গণভোটে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার প্রবণতা প্রতিরোধে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোটে জনগণের রায় ‘হ্যাঁ’ হলে কেউ ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। এতে নাগরিক ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, গুম ও খুনের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে এবং রাজনৈতিক দলের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামীতে সরকার এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে, নিজের স্বার্থে নয়।
গণভোটে কিছু মানুষ ‘না’ পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার। এজন্যই গণভোটে ‘না’ অপশন রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবু জাফর, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ এবং ছাত্র নেতা আলিফ সিদ্দিকী প্রান্ত প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নীলফামারীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: যুগান্তর।
