রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পৃথক দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
জুলাই আন্দোলনে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলায় ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
হোসেন হত্যার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রীনা বেগম ওই বছরের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান। এ মামলায় ২০ আসামি পলাতক রয়েছেন।
আরও যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তারা হলেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু। তবে সাদেক খান, পলকসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন। ১০ জন জামিনে রয়েছেন।
সবুজ হত্যা মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছরের সবুজ।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন সুবজের ভাই মনির হোসেন। মামলার এজাহারে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম ছিল না। তবে তদন্ত শেষে গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম। অভিযোগপত্রভুক্ত ২১ জনই পলাতক রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নুরনবী চৌধুরী শাওন। সাদেক খানসহ তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন ৬ আসামি।
সূত্র: যুগান্তর।
