মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় মালয়েশিয়ার ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার টিকে থাকা নির্ভর করছে ‘এক পরিবার’ হিসেবে পরস্পরকে গ্রহণ করার মানসিকতার ওপর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই দেশের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার শক্তি তার বৈচিত্র্যে, আর সেই বৈচিত্র্যকে ধারণ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে একে অপরকে একটি বৃহৎ পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার সক্ষমতার ওপর।’ বিভিন্ন প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সময় এই সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনা নববর্ষ, পঙ্গল এবং চলমান রমজানের কথা তুলে ধরেন। আনোয়ার জানান, রমজান মাসে রোজাদার মুসলমানদের কথা বিবেচনা করে একটি চীনা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান আগেভাগে আয়োজন করা হয়েছিল—যা অসাধারণ সৌহার্দ্যের নিদর্শন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি থাইপূসাম উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার শুরুর আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল থেকে অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
বিদেশি দূতদের আশ্বস্ত করে আনোয়ার বলেন, বাস্তবে মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইবান ও কাদাজানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই বসবাস করছে। তিনি বলেন, এই ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা অটুট রাখা মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতার মাহফিলে আরও আমন্ত্রিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে। মাহফিলে কূটনীতিকদের সঙ্গে পরিচয়পর্বে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা হয় হাইকমিশনারের। এ সময় অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা দিয়ে এভাবেই বহুজাতিক মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
সূত্র: যুগান্তর।
