সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৌশলগত সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টিআইবির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত সমন্বিত কৌশল ও পথরেখার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব কর্মপরিকল্পনার মূলধারায় সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী উপাদান সক্রিয় ও অবশ্যপালনীয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির কার্যকর ও দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ ছাড়া সরকারের অন্য কোনো অঙ্গীকার বা উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
সুপারিশে আরও বলা হয়, দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনি অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের সুযোগ ও সক্ষমতার পাশাপাশি বহুমুখী প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির উৎস, স্বরূপ ও প্রক্রিয়া চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় উপযুক্ত কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কোনগুলো কোন যুক্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে বা হবে না, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করতে হবে।
সুপারিশে আরও বলা হয়, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থক, আমলাতন্ত্র এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির বিকাশ রোধে দল ও সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দল ও দলীয় অঙ্গসংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে শুদ্ধতা চর্চা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নির্দেশনা জারি করতে হবে।
এছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরে সরকারের সাফল্যের পরিপন্থি শক্তি যেন ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।
কর্তৃত্ববাদের পতন ও নির্বাচনে বড় বিজয়ের ফলে রাজনৈতিক বা সরকারি অবস্থান, জনপ্রতিনিধিত্ব বা অন্য কোনোভাবে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনার প্রবণতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ ও বিলুপ্ত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিকে স্বাভাবিকতা দেওয়ার সব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাশাপাশি সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর।
