বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার। এর জন্য তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; তাই বিলম্ব না করে সরকার গঠনের ২১তম দিনে বাংলাদেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আরও একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে। সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি।
মঙ্গলবার উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাবেন গৃহবধূরা, নারীরা। এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ভিত্তি দৃঢ় করা। সন্তানদের চাহিদা পূরণের জন্য তারা বেশি মায়েদের কাছে আসে, আমরা চাই পারিবারিক ভিত্তিগুলি শক্তিশালী হোক। পরিবারের নারীরা জানেন কোন খরচগুলো বেশি প্রয়োজন এবং তার পক্ষেই সম্ভব পরিবারের খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করা যায়। সেজন্য প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের যতগুলো নির্বাচনি অঙ্গীকার করা হয়েছে তার সবটি বাংলাদেশের উন্নয়নকে টার্গেট করে করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব। যাতে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সুনামগঞ্জের যতগুলো রাস্তা আছে, ব্রিজ কালভার্ট দরকার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যেখানে খাল খনন দরকার- তা করা হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এখানে একটি মাত্র ফসল উৎপাদন হয় বোরো ফসল, আর কী ধরনের ভিন্ন প্রজাতির বাড়তি ফসল হিসেবে ফলানো যায় এই পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবার যাতে বাড়তি আয় করতে পারে সে বিষয়ে কাজ করবে সরকার।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইনস্ট্রাক্টর হরিমোহন রায়ের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- এমপি নাছির চৌধুরী, এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ, এমপি কামরুজ্জামান কামরুল, এমপি এম কয়ছর আহমেদ, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সহিদুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজিব সরকার।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি। কৃষি উৎপাদনে সিলেট বিভাগ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে, তার কারণ হলো বেশির ভাগ জমিতে শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব। সে কারণে বাড়তি ফসল হয় না, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এই জমিগুলোতে যদি আমরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারি আর শুকনা সময়ে সেচের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে সিলেট বিভাগের প্রত্যেকটা কৃষি জমি থেকে বাড়তি ফসল ফলানে সম্ভব। আগামী দিনে আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমরা চাই প্রত্যেকটা পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছতা দেখতে, এটাই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তারও আগে আওয়ামী লীগের সময়ে বিনিয়োগের বন্ধ্যত্ব ছিল, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ছিল। আমরা জানি বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হয় না। কর্মসংস্থান যদি না হয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকবে না, দারিদ্র্য বাড়বে। এ জন্য যাতে বিনিয়োগবান্ধব একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়বে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিছু প্রভাব তো পড়বেই। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নদীপথ সমুদ্রপথ এ যুদ্ধের যে অবস্থানের কাছাকাছি থাকায় পরিবহণ খরচ বাড়বে, তবে ৫-১০ দিন যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশু কোনো সম্ভাবনা নাই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত যে উপায়ে এই কার্ডগুলোর উপকারভোগীদের বেছে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে কোনো বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিবিএসের জরিপ থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে খানা জরিপের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য স্কোরিং এর মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা সবসময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখব। এ সময় মন্ত্রী কয়েক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
এ প্রকল্পে কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আকিল শাহ, উত্তর সুরিয়ারপাড় ও রাধানগর গ্রামের ৬৯৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
