জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহিদদের আত্মত্যাগকে পুঁজি করে কোনো ধরনের প্রতারণা বা অপরাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া হলে যাত্রাবাড়ী জুলাই শহীদ পরিবার এবং আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে ‘জুলাই প্রতারক প্রতিরোধ এবং আগামীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের কোনো খবর নেই। অথচ জুলাই চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। সবাই এখন এই চেতনা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থী জুলাই যোদ্ধাদের সামনে এনে ফায়দা লুটলেও পরে আর তাদের খোঁজ রাখেন না।
আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব আল আমিন আতিয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ বা নাহিদ ইসলামরা কেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেননি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। ১৯ মাস পার হয়ে গেলেও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা না হওয়াকে তিনি চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
শহীদ সাব্বির হোসেন মোল্লার বোন সুমাইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু ১৯ মাস পার হলেও তার নাম গেজেটে ওঠেনি। আজ যারা সমন্বয়ক থেকে নেতা হয়েছেন বা ক্ষমতায় আছেন, তারা আমার ভাইয়ের মতো শহীদদের রক্তের বিনিময়েই এই অবস্থানে এসেছেন।
যাত্রাবাড়ী জুলাই শহীদ পরিবারের আহ্বায়ক ও শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম জানান, যাত্রাবাড়ীতে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নতুন সরকার আসার পর আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেক জায়গায় তাদের অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে, যা শহীদ পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক।
সভায় বক্তারা অবিলম্বে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের তারেক আজিজ এবং শহীদ রাব্বির বোন মিতু আক্তার প্রমুখ।
