করাপশন টক
রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট বিপাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চালকরা

editor
মার্চ ১৫, ২০২৬ ৮:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ওষুধ কোম্পানির কাভার্ডভ্যানচালক রবিউল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ওষুধ নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ যাচ্ছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর সবুর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য গাড়ির লাইনে দাঁড়ান। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি কোনো জ্বালানি পাননি।

রবিউল ইসলাম বলেন, ২২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো জ্বালানি পাইনি। এতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো ওষুধ পৌঁছে দিতে পারছি না। গাড়ির ওষুধগুলো তারাগঞ্জ পৌঁছে দিয়ে রূপগঞ্জ ফিরে তারপর ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। জ্বালানি তেলের যে সংকট আর যে যানজট তাতে মনে হয় ঈদ সড়কেই করতে হবে।

শুধু রবিউল ইসলাম নয়, তার মতো হাজার হাজার যানবাহনের চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য অপেক্ষা করছে। চাতক পাখির মতো পাম্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চালকরা।

মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ইতোমধ্যে অনেকটা ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পে ডিজেল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ দুর্ভোগ শেষ হবে কবে তাও জানেন না পরিবহন চালকরা।

পরিবহণ চালকরা জানান, টাঙ্গাইলের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চালকরা। তাদের ১৫ থেকে ২২ ঘণ্টা যাবত পাম্পে সিরিয়াল দিয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চলমান ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

কালিহাতীর ট্রাকচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গতকাল রাতে চাল ঢাকায় রেখে টাঙ্গাইলে এসে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে তখন মহাবিপদ হতে পারে।

মহাসড়কের বিপুল পরিবহণের চালক ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি জামালপুর থেকে কক্সবাজার ট্রিপ দেই। রোববার ভোর থেকে পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো জ্বালানি পাচ্ছি না। তবে টাঙ্গাইলের কোনো কোনো পাম্প তাদের স্থানীয় যানবাহন ও প্রভাবশালীদের জ্বালানি দিচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি কামনা করেন তিনি।

টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে নারায়ণগঞ্জ ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি আনা হয়। সেখানে থেকে পর্যাপ্ত সরাবরাহ দিতে পারছে না। এতে আমরাও গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছি না। জ্বালানি নামানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলে জ্বালানি মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফিলিং স্টেশনকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাবলু বলেন, আমরা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরোদমে যখন ঈদযাত্রা শুরু হবে, তখন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সূত্র: যুগান্তর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।