শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, প্রকল্পের সংখ্যার চেয়ে কাজের মানের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, যেকোনো উন্নয়নকাজ যেন দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আজ (সোমবার) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন সমাপ্ত ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং নতুন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সকালে মন্ত্রী পুকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত সংযোগ সড়কের সমাপ্ত কাজ পরিদর্শন করেন। কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনবহুল এলাকাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরবর্তীতে তিনি জাফলং ব্রিজ সংলগ্ন প্রস্তাবিত পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে পুলিশ সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের তাগিদ দেন। পাশাপাশি ফাঁড়ি এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস গাছ অপসারণ করে তার পরিবর্তে ফলদ বৃক্ষ রোপণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় মন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ এবং উপজেলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জমি চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
সিলেটের তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ কেন্দ্রে ড্রাইভিং, ক্যাটারিং, প্লাম্বিংসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ হাইটেক পার্কের অব্যবহৃত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেখানে রপ্তানিমুখী শিল্পনগরী গড়ে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাথর কোয়ারি সচল করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে মন্ত্রী বীরমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫-তলা একাডেমিক ভবন এবং জিসি সড়ক হতে গহড়া দোয়ারীখেল সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুখ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
