পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন রবিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাখো পর্যটকে মুখর ছিল চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। সমুদ্রের নোনা জলে গা ভেজানোর জন্য চট্টগ্রাম ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন পর্যটকরা। সৈকতের পাশাপাশি অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা।
ঈদের দিন থেকে খোলা রয়েছে চট্টগ্রামের সবকটি বিনোদন কেন্দ্র। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, আনোয়ারা পারকি সৈকত, কনকর্ড ফয়স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, ডিসি পার্ক, কর্ণফুলী টার্নেল, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক, পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক, সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ঝরনা ও নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, পতেঙ্গা নেভালসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র।
ঈদের দ্বিতীয় দিনে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত পতেঙ্গায়। সৈকতের পাশেই রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের একমাত্র টানেল। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এখানে লাখো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সৈকতে বেড়াতে আসা নুরুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেণ, ‘বাচ্চাদের স্কুল ছুটি। সেজন্য সমুদ্র পাড়ে নির্মল বাতাস নিতে এসেছি। যদিও এখানে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। তারপরও পরিবেশটা ভালো লাগছে।’
সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. হাসান ইমাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈকত। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সৈকতের পাশে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত একমাত্র টানেল। টানেল দেখতেও জড়ো হয়েছেন বহু দর্শনার্থী।’
তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ সদর দফতর থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা এসেছে। আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছি। টহল পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রাখা হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। বলা যায় সৈকত ঘিরে একাধিক স্তরে নিরাপত্তা বলয় সাজানো হয়েছে।’
দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়
সৈকতের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। যেখানে পশু-পাখির পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে বিভিন্ন রাইড। চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে চিড়িয়াখানা খোলা আছে। আজ ২০ হাজারের মতো দর্শনার্থী এসেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ঈদের পাঁচ দিনে লক্ষাধিক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় আসার সম্ভাবনা আছে।’
তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় ৬৮ প্রজাতির ৫২০টি পশু-পাখি আছে। এটি বড় করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আরও পশু-পাখি বাড়বে। ঈদ ঘিরে মরিচা পড়া পশু-পাখির খাচাগুলো নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য পাশের কয়েকটি পাহাড় ঘিরে গড়ে উঠা ওয়াকওয়ে দর্শনার্থীদের বিনোদনে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। পশু-পাখি দেখার পাশাপাশি আছে শিশুদের জন্য দোলনাসহ বিভিন্ন বিভিন্ন রাইড।’
ফয়’স লেকেও গেছেন পর্যটকরা
চিড়িয়াখানার পাশেই নগরীর কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি-ওয়ার্ল্ড। সেখানেও ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের সমাগম ঘটেছে।
শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ৩৩৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেক কমপ্লেক্স। যার মধ্যে রয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে আঁকাবাঁকা লেক। অ্যামিউজমেন্ট পার্কে সাজানো হয়েছে অনেকগুলো রাইড নিয়ে। উল্লেখযোগ্য রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে, সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, কফিকাপ, রেড ড্রাইল্লাইড, ইয়োলো ড্রাই-স্লাইড, বাগ বইন্স ইত্যাদি। খাবার-দাবারের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে পাওয়া যায় দেশি-বিদেশি নানা রকম খাবারের অ্যাডভেঞ্চার। ঠিক পাশেই দেখা মিলবে হরেক রকম মাছের খেলা। অ্যামিউজমেন্ট পার্কের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই দেখা মিলবে ফয়’স লেকের।
ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটেছে। ঈদের আগে যে রাইডগুলো নষ্ট ছিল সেগুলোর সংস্কার হয়েছে। সব রাইডের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। পার্ককে আধুনিক করেছি। লেকে ভ্রমণের জন্য নতুন ইঞ্জিন বোট যুক্ত করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে রিসোর্ট-বাংলো সংস্কার করা হয়েছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ঘটেছে সেগুলোর নিরাপত্তায় টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে ছিনতাই, হয়রানি রোধে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
