ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক অর্জনের প্রশংসা করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সূচনা করেছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামের মূলে ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি জনগণের ভালোবাসা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা, যা শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন জাতির উদ্ভব ঘটায়।
বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, শক্তিশালী শিল্প সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল খাতে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সংকটকালেও অসামান্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ বাংলাদেশের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশটি গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণসহ প্রাথমিক পুনর্গঠনে অবদান রেখেছিল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে যৌথ প্রকল্প ও পারস্পরিক লাভজনক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত সাফল্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
