সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, লাঙ্গলবন্দের স্নানোৎসব কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই মিলনমেলা প্রমাণ করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। সবাই মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে চাই। আমাদের মধ্যে মনের মতের চিন্তার ও রাজনৈতিক পার্থক্য থাকতে পারে। আমরা এই বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্য চাই।
তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ঐতিহ্য। আমাদের দেশ শান্তির সংস্কৃতি বহন করে। নানা ঐতিহাসিক কারণে আমরা পিছিয়ে পড়া জাতি। সঠিক নেতৃত্বের কারণে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। শপথ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দিন রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। তারই নেতৃত্বে আমরা একটি নতুন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে বুধবার রাতে লাঙ্গলবন্দের চিরইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই তীর্থস্থানটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করব। যাতে দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে কাজ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার, প্রবীর কুমার সাহা, সরোজ কুমার সাহা, বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটনসহ স্নানোৎসব উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানে শিল্পীরা ভজন ও লোকজ সংগীত পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাপমুক্তির আশায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী এই স্নানোৎসবে সমবেত হন।
সূত্র: যুগান্তর।
