এক-এগারোর সময় এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গুম-খুনসহ নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মিরপুর মডেল থানা এলাকায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুখ খুলেছেন ভুক্তভোগী এক সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি হলেন সৈয়দ আবদাল আহমেদ। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতি সংগঠিত করাই ছিল তার ‘অপরাধ’।
বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে তিনি লেখেন, লে. জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ১/১১-র সময় ডিজিএফআই-এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে তৎকালীন লে. কর্নেল গোলাম মাওলাকে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করিয়েছিলেন। চৈত্রের তীব্র গরমের মধ্যে একটি আলো-বাতাসহীন দমবন্ধ হওয়ার মতো ঘরে বন্দি করে রাখেন। আমার অপরাধ ছিল দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে গণমাধ্যমে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতির উদ্যোগ কেন আমি নিয়েছিলাম?
ফেসবুক পোস্টের এক অংশে সৈয়দ আবদাল আহমেদ লেখেন, ‘ডিজিএফআই থেকে আমাকে ডাকা হলো চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা বলে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, হয়তো জবাবদিহি করতে হবে। আমার সহকর্মী ও বন্ধু লে. রুশদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। রুশদকে বলা হলো কিছুক্ষণ পরে সভা হবে, আপনি থাকার দরকার নেই। তিনি চলে গেলেন। এরপর লে. কর্নেল গোলাম মাওলার অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলাম। আমার বাবা একজন আলেমে দ্বীন ছিলেন। মসজিদের একজন খতিব ও পীর সাহেব হিসাবে সারা জীবন আদর্শ জীবনযাপন করেছেন, মানুষের কল্যাণ করে গেছেন। কিন্তু ওই আর্মি অফিসার আমার বাবাকে উদ্দেশ করে, এমন একজন আলেমে দ্বীনকে উদ্দেশ করে যে ভাষায় গালাগাল করেছিলেন, আমার তখন মনে হলো, এর চেয়ে আমার মরণ হলো না কেন? আমি ওই অফিসারকে ‘আমার বাবা একজন আলেম, আমার জন্য ওনাকে কেন গালাগাল করছেন’ বললেও তিনি কর্ণপাত করেননি, গালি অব্যাহতই রেখেছিলেন। তেমনি সেদিন স্কুল থেকে ছেলেকে বাসায় নেওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার। কিন্তু ডিজিএফআই-রে অফিসে আটক থাকায় বাসায় বা স্কুলে খবর দিতে পারিনি। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটির কয়েক ঘণ্টা পর ছেলেটিকে বাড়ি পৌঁছায়। অফিস এবং বাসা থেকে আমার খোঁজ শুরু হলে লে. রুশদ ভাই সাংবাদিকদের জানান এবং ডিজিএফআই অফিসে যোগাযোগ করেন। এরই মধ্যে বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তারা রাতে প্রেস ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন, এ খবর পেয়ে ডিজিএফআই রাতে অবশেষে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এত বছর পর আজ সেই মামুন খালেদ তাদের সেই ঘৃণ্য অপকর্মের জন্য ধরা পড়েছেন, খবরটি দেখে খুব ভালো লাগছে। পাপের জন্য কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত করুন মামুন খালেদ।’ সূত্র: যুগান্তর।
