বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। খাল খননে জিয়াউর রহমানের নাম সামনে চলে আসবে, তাই বিগত সরকার খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের একটি স্থায়ী সমাধানের সূত্র খুঁজে বের করতে চাই।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খাল পুনঃখননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি বুরুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার মানুষ। এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার খনন কাজ। খনন কাজ উদ্বোধন শেষে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের সরকার মানুষের দুঃখ কষ্টের সমব্যাথী। এজন্য এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যার সমাধান করতে চায়। বিগত সরকার উন্নয়নের নামে পকেট ভারি না করলে ভবদহের সমস্যার সমাধান এতদিনে হয়ে যেত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ, কষ্টের স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে চায়। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে ৮১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনর্খনন কাজ চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে ভবদহ এলাকায় বিদ্যমান ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কার্যক্রম চলমান।
প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বর্ষার আগে বাঁধ অপসারণ ও স্লুইচ গেট সচল করার ওপর জোর দেন। যাতে বর্ষার আগে গত বছরের জলাবদ্ধতার কষ্ট অন্তত এবার ৫০ শতাংশ লাঘব করা যায়। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই কাজে তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী প্রমুখ। সূত্র: যুগান্তর।
