সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সিলেট নগরীর কাজিরবাজারের মালিকানা রাষ্ট্রের কাছে এসেছে। সরকারের পক্ষে সিটি কর্পোরেশন এক বছরের জন্য বাজারটি ইজারা দিয়েছে। ইজারা থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের একটি অংশ খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওয়াকফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ নগরবাসীর কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কাজিরবাজার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কাজিরবাজারের ইতিহাস তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক জানান, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া এই বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘কাজী’ থেকে বাজারটির নামকরণ করা হয়। জনহিতকর কাজে তিনি তাঁর সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটে দান করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায়—বানিয়াচং, হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জ হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত—খান বাহাদুরের উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি ছিল। অতীতে সিলেট জেলার ডিসি এই ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে সম্পত্তির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হাটবাজার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো বাজার ব্যক্তিমালিকানাধীন হতে পারে না; এর মালিক সরকার। কাজিরবাজার নিয়ে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা শেষে চূড়ান্তভাবে সরকারের পক্ষে রায় আসে। বিভাগীয় কমিশনার সরাসরি বাজার পরিচালনা করতে না পারায় সিটি কর্পোরেশন এক বছরের জন্য এই হাট ইজারা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ই নগর উন্নয়নের প্রধান উৎস। কাজিরবাজার থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ ওয়াকফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ নগরবাসীর কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
বাজার পরিচালনায় সিটি কর্পোরেশন ও ইজারাদারকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইজারাদার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
