নিজেকে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক পরিচয়ে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়ে মোবাইলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বিয়ে। অতঃপর ভিডিওকলে কথা বলার সময় ভিক্টিমের আপত্তিকর ভিডিও সংরক্ষণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক। এরকম প্রায় অর্ধশতাধিক নারীর সাথে প্রতারণা করে আত্মগোপনে থাকলেও সিআইডির হাতে ধরা পড়তে হলো তাকে।
এই গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন (২৯), পিতা- মো. সেলিম, মাতা- নার্গিস আক্তার, সাং- ছমদর পাড়া, থানা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম। গত ২০/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।
উক্ত ঘটনায় ভিক্টিমের ভাই বাদী হয়ে মিরপুর মডেল (ডিএমপি) থানার মামলা নং-১৬, তারিখ-১১/০১/২০২৬ খ্রি. ধারা- পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪০৬/৪২০, পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭) রুজু করেন।
মামলাটির এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন (২৯) ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজ “BCCB Matrimonial: Heavenly Match” এর মাধ্যমে একজন আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি নিজেকে “নাদিম আহমেদ সুমন” নামধারণ করে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক হিসেবে পরিচয় দেন। ভিক্টিমের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভিডিও কলে তার মা ও বোন পরিচয়ে আরও দুইজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আমেরিকায় যাওয়ার কথা বলে ভিক্টিমের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা নিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভিডিও কলে কৌশলে ভিক্টিমের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি ভিক্টিমের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট এবং বিকাশের মাধ্যমে আনুমানিক ১ লক্ষ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার (যার বর্তমান বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করেন।
মামলাটি অধিগ্রহণ করে গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে গতকাল চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার বটতলী এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন (২৯) ৮০ থেকে ৮৫ জন ভিকটিমের সাথে একইরকমভাবে প্রতারণা করেছে মর্মে স্বীকার করেছে।
ডিএমপি এর মোহাম্মদপুর থানার মামলা নং-৪৯, তারিখ-০৬/০৪/২০২৪ খ্রি.ধারা-৮(১)/৮(২)/৮ (৭) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২,এর তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে মো. সালাউদ্দিনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে মর্মে জানা যায়। জামিনে মুক্ত হয়ে একই পদ্ধতিতে নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করার অপরাধ অব্যাহত রাখে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
