বলিউডের ‘কিসারবয়’ খ্যাত অভিনেতা ইমরান হাশমির ক্যারিয়ার এখন তুঙ্গে। একসময় যাকে কেবল ‘সিরিয়াল কিসার’, ‘অটোরিকশাচালকদের রাজা’ কিংবা ‘বি-গ্রেড’ সিনেমার নায়ক হিসেবে তকমা দেওয়া হতো, সেই অভিনেতাই এখন পর্দায় দক্ষ অভিনেতা হিসেবে নিজের জাত চেনাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার কাজের ধরন ও চরিত্রের বৈচিত্র্য জানান দিচ্ছে এটি তার ক্যারিয়ারের এক শক্তিশালী ‘দ্বিতীয় ইনিংস’। বিশেষ করে ‘চেহরে’ সিনেমায় বর্ষীয়ান অভিনেতা শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে এবং পরে খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কাজ তার অভিনয় জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গতানুগতিক ইমেজের বাইরে গিয়ে ইমরান হাশমি এখন নিজেকে একজন দক্ষ অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। ক্যারিয়ারের শুরুতে ইমরান মানেই ছিল মাথায় ‘মালেট কাট’, চোখেমুখে রাগী ভাব আর পর্দায় নায়িকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ চুম্বন। ‘মার্ডার’, ‘মার্ডার ২’, ‘জান্নাত’ কিংবা ‘আশিক বানায়া আপনে’র মতো একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিলেও অভিনয় দক্ষতার চেয়ে তার ‘ইমেজ’ নিয়েই আলোচনা-সমালোচনা হতো বেশি। মাঝে ছেলের অসুস্থতার কারণে রুপালি পর্দা থেকে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিলেন এ সিরিয়াল কিসারখ্যাত অভিনেতা। তবে ফিরে এসে বদলে দিয়েছেন সব সমীকরণ।
সম্প্রতি এক পোডকাস্টের সাক্ষাৎকারে ইমরান হাশমি তার এই বদলে যাওয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, করোনা পরবর্তী সময়টা তার ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই সময়ে তিনি পর্দার আড়ালে নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। চিত্রনাট্য পড়া থেকে শুরু করে নিয়মিত শরীরচর্চা সবই করেছেন নীরবে।
অভিনেতা বলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে সাফল্য আর ব্যর্থতা দুটোই মানুষকে পাগল করে দিতে পারে। তাই মাথা ঠান্ডা রাখা, মুহূর্তটা উপভোগ করা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি। জীবনে সব সময়ে সাফল্য থাকবে এমনটি আশা করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, উত্থান-পতন থাকবেই, আর খারাপ সময়ে ভেঙে পড়লে সেটাই নিজের ক্যারিয়ার নষ্ট করার পথ তৈরি করে।
তিনি বলেন, আসল পরিশ্রমটা আড়ালেই হয় এবং দিনশেষে কাজই কথা বলে। তিনি নিজের অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে কখনো সন্দিহান ছিলেন না। তবে সফল হতে অনেক কিছুর সমন্বয় প্রয়োজন হয়। সেই সমন্বয়ই যেন এখন ঘটছে তার জীবনে বলে জানান ইমরান হাশমি।
