করাপশন টক
শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রিসে চাকরি দেওয়ার নামে লিবিয়ায় যুবক পাচার ও জিম্মি, বাংলাদেশে বসে মুক্তিপণ আদায়; সিআইডি কর্তৃক গ্রেফতার ০১

editor
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ ৭:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গ্রিসে উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে লিবিয়ায় পাচার, শারীরিক নির্যাতন এবং দেশে বসে মুক্তিপণ আদায়, এমনই এক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির মানব পাচার ইউনিট (টিএইচবি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫), পিতা- মোজাফ্ফর আলী, মাতা- মোসা. রোখেয়া বেগম, সাং- ইধনপুর, থানা- দোয়ারা বাজার, জেলা- সুনামগঞ্জ। গত ১০/১২/২০২৫ খ্রি. ১৫:৩০ ঘটিকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সিআইডিতে তদন্তাধীন ০২ টি পৃথক মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানায় রুজু হওয়া মামলা নং- ০৬, তারিখ- ০৪/১২/২০২৫ খ্রি. ধারা- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ ধারা ৬(১)(২)/৭/৮(১)(২)/১০(১) এর এজাহার থেকে জানা যায় যে, চক্রটির গ্রীস প্রবাসী অন্যতম সদস্য মো. শরীফ উদ্দিন (৩৬) ২০২৪ সালে দেশে এসে বাদী ও অন্য এক ভুক্তভোগী যুবককে গ্রিসে লোভনীয় বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এজন্য জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তি হলে প্রাথমিকভাবে বাদী ও অন্য যুবক ০২ জন প্রত্যেকে পাসপোর্ট এবং ২ লক্ষ টাকা করে ০১ নং বিবাদী মো. শরীফ উদ্দিন (৩৬)কে প্রদান করেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে মো. শরীফ উদ্দিন (৩৬) ০২ জনকে বিমানযোগে বাংলাদেশ থেকে দুবাই, সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠান। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চক্রের মনোনীত ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করে এবং পরে একদল মাফিয়ার হাতে তাদেরকে তুলে দেয়। সেখানে তাদের কাছ থেকে ডলার ও ইউরো ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দেশে বসে চক্রের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫) ও অন্যান্য সহযোগীরা দুই ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেন। তারা বিভিন্ন সময় ও তারিখে এক ভুক্তভোগী যুবকের পরিবারের নিকট হতে মোট ২১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং অন্য যুবকের পরিবারের নিকট হতে মোট ১৬ লক্ষ টাকা আদায় করে।

মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের মুক্তি না দিয়ে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৪৫ দিন জেল হাজতে কাটানোর পর ২৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখ বাদী ও অন্য যুবকটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (International Organization for Migration- IOM) এর সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে আসামিদের কাছে টাকা চাইলে তারা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

গ্রেফতারকৃত নজির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে দীর্ঘদিন যাবৎ ভিক্টিমদের প্রলুদ্ধ করে ইউরোপ নেওয়ার কথা বলে লিবিয়া প্রেরণ করে আসছে। উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১৯ জনের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ০৩ কোটি টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। যার মধ্যে ০৯ জন ভিকটিম IOM এর সহায়তা দেশে ফেরত আসতে পেরেছেন। বাকিরা এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়ার কাছে আটক আছেন।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ডিএমপি’র ডেমরা মডেল থানায় রুজু হওয়া অপর এক মামলায়ও গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫) এর সম্পৃক্ততা পেয়েছে সিআইডি। মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, চক্রটির অন্যতম সদস্য এজাহারনামীয় ০১ নং অভিযুক্ত মো. বাহাদুর ফারাজী (৫৫) এর সাথে ভুক্তভোগী বাদীর মোবাইলে পরিচয় হয়। বাদীকে গ্রিসে লোভনীয় বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বাদী রাজি হয়ে ফারাজীকে পাসপোর্ট ও নগদ ০৮ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।
মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এজাহারনামীয় ০২নং অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃত নজির ভুক্তভোগী বাদীকে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকেট সরবরাহ করেন। পরে বাদী দুবাই, মিশর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছালে চক্রের অন্য এক সদস্য তাকে গ্রহণ করে এবং তাকে লিবিয়ার বেনগাজির একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে। পূর্বের উল্লেখিত ঘটনার ন্যায় গ্রেফতারকৃত নজির ভুক্তভোগীর পরিবারের নিকট হতে বিভিন্ন সময়ে মোট ১১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ পেয়ে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সহযোগীরা ভিকটিমকে মরুভূমিতে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। লিবিয়ায় মোট ১৯ দিন কারাবন্দী থাকার পর এই ভুক্তভোগী বাদী IOM এর সহায়তায় ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

দেশে ফিরে এই প্রেক্ষিতে ডেমরা মডেল (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ৩১, তাং- ২১/১১/২০২৫ খ্রি., ধারা- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮/১০ রুজু করেন। এই মামলায় ইতোপূর্বে চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তদন্তে পাওয়া যায়, উপরোল্লিখিত দুইটি মামলা ছাড়াও গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ নজির হোসেন বিমানবন্দর (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ২৪, তারিখ- ১৭/১০/২০২১ খ্রি. ধারা- ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ পেনাল কোড-১৮৬০ এর চার্জশিটভুক্ত আসামী।

তদন্ত চলমান ০২টি মামলারই কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডির মানব পাচার ইউনিট (টিএইচবি) পরিচালনা করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫) ০২টি মামলাতেই নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।