প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে হারের খেসারত গুনতে হলো টটেনহ্যাম হটস্পারকে। বুধবার ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারালেও শেষ ষোলো থেকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটিকে। কারণ, দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
প্রথম লেগে মাদ্রিদে ৫-২ ব্যবধানে হারের পর কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে টটেনহ্যাম। তবে লিভারপুলের বিপক্ষে ড্র করার পর কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তারা, যার ছাপ দেখা যায় এই ম্যাচে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে টটেনহ্যাম। যদিও ম্যাচের ৬ মিনিটেই গোল হজম করতে পারত তারা, কিন্তু অফসাইডের কারণে অ্যাডেমোলা লুকম্যানের গোল বাতিল হয়ে যায়।
৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাথিস তেলের দারুণ ক্রস থেকে হেড করে বল জালে পাঠান র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি। এই গোলেই নতুন আশার সঞ্চার হয় টটেনহ্যামের শিবিরে।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলরক্ষক গুলিয়েলমো ভিকারিওর দৃঢ়তায় বিরতির আগ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় অ্যাটলেটিকো। ৪৭ মিনিটে দুর্দান্ত শটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ, যা টটেনহ্যামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ৫২ মিনিটে জাভি সিমন্স দূরপাল্লার দৃষ্টিনন্দন শটে আবারও লিড এনে দেন দলকে, যা ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে।
এরপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও হুয়ান মুসোর অসাধারণ সেভে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয় টটেনহ্যামের। ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে ডেভিড হানকোর হেডে গোল করে আবারও সমতায় ফেরে অ্যাটলেটিকো, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শেষদিকে নাটকীয়তা যোগ হয় ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পায় টটেনহ্যাম এবং সেটি ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জাভি সিমন্স। এর মাধ্যমে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দলটি।
তবে এই জয় কেবল সান্ত্বনাই হয়ে থাকে। দুই লেগ মিলিয়ে পিছিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিতে হয় টটেনহ্যামকে। এখন তাদের দৃষ্টি ঘরোয়া লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে।
