সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের সদস্য রিপন মিয়া (২৪), পিতা: চান মিয়া, মাতা: কল্পনা বেগম, সাং- পূর্বধলা (হিরি ভিটা- পল্লী), জেলা- নেত্রকোনা-কে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট ।
গত ০১/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত ২১:০৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন নিরিবিলি এলাকার ফাল্গুনী হাউজিংয়ের একটি বাসা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার নিকট হতে অপরাধকার্যে ব্যবহৃত ০৪ (চার) টি মোবাইল ফোন এবং ০৮ (আট) টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
গত ০৭/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে একজন ভুক্তভোগী রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তার ব্যবহৃত একটি iPhone-15 মডেলের মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য তিনি “Cyber Crime Helpline” নামক একটি ভুয়া ফেসবুক আইডির সাথে যোগাযোগ করেন। উক্ত আইডি থেকে তাকে একটি WhatsApp নম্বর প্রদান করা হয়। সেখানে যোগাযোগ করলে প্রতারক নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই ইকবাল হোসেন পরিচয় দিয়ে মোবাইল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এক পর্যায়ে প্রতারক মোবাইল উদ্ধার বাবদ ভিকটিমের নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা গ্রহণ করে এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে খিলক্ষেত (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ: ১৬/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা ৪০৬/১৭০/৪১৯/৪২০/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ মোতাবেক একটি মামলা রুজু করেন। মামলা হওয়ার পরপরই সিপিসি, সিআইডি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একই কৌশল অবলম্বন করে প্রতারক চক্র অন্য এক ভিকটিমের নিকট থেকেও ৭২,৭০০/- (বাহাত্তর হাজার সাতশত) টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে সিআইডি পুলিশের সদস্য (এসআই ইকবাল, এসআই আরমান ইত্যাদি) পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হারানো মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। বর্ণিত মামলা ছাড়াও সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডি এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করলে তার সাথে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
