দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত দেশের মানুষকে আর পেছনে না থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কেউ যদি আপনাদের ভোট দিতে বাধা দেয়, তাহলে রুখে দাঁড়াবেন। নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশ থেকে দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্র নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মর্যাদার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দেশের মানুষ যেন কারও দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব। নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গকে স্বাধীনতার পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী হলেও অবহেলার শিকার। আমরা এখানকার কাউকে বেকার দেখতে চাই না।
উত্তরবঙ্গে অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথেই মারা যান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটিতে মেডিকেল কলেজ থাকবে এবং পঞ্চগড়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
উন্নয়ন অর্থায়নের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করেই উন্নয়নের অর্থ জোগাড় করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের দুঃসময়ে আমরা জনগণকে ফেলে কোথাও যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাবো না। ১০ দলীয় ঐক্য জোটকে সংসদে পাঠানো হলে শুধু নদীর জীবন নয়, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সমাবেশে তিনি জুলাই যোদ্ধা, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্র নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সূত্র: যুগান্তর।
