করাপশন টক
মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

editor
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৬:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন এসেছিলাম দ্বীনদার ও ইমানদার ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে। যেসব মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। যেসব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল, চেয়ে চেয়ে দেখছিল-আমাদের বাবা আসছে না কেন-তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে এসেছিলাম। যেসব যুবকের হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছিল, আমি তাদের প্রশ্নের অংশীদার হতে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, সেই সময় তাদের মায়ের চোখের পানি দেখেছি, রক্তের ফোঁটা দেখেছিলাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল?

জামায়াত আমির বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছিলাম। অনেকেই বলেছিলেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই জেলার সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এ অবস্থা চিরকাল থাকবে; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা কেড়ে নেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষপর্যন্ত তাদের সম্মান দেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন আমাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।
সূত্র: যুগান্তর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।