ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারতের সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এর পরপরই কংগ্রেস সংসদ ইমরান মাসুদ ভারতে অবস্থানরত ইরানের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এএনআই জানায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে নয়াদিল্লিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খামেনি হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে, সোনিয়া গান্ধী এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করা হলে সে বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থান থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নীরব থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইমরান মাসুদের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।
কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যার ঘটনায় ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে। ভারতে বসবাসরত বা কর্মরত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বার্থও এতে জড়িত। ফলে বিষয়টি কেবল আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কী অবস্থান নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর।
