দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।
এবার আরেক দেশে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ওয়াশিংটন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে হামলা চালিয়েছেন মার্কিন সৈন্যরা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা করেছে, দেশটিতে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা ইকুয়েডরের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক কার্যক্রম তদারকিকারী ইউনিট) জানায়, ইকুয়েডরে যৌথ অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান বলেন, ‘৩ মার্চ ইকুয়েডর ও মার্কিন সামরিক বাহিনী ইকুয়েডরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই অভিযান দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অংশীদারদের মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতির এক শক্তিশালী উদাহরণ।
এই বিবৃতির সঙ্গে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের ভিডিও ফুটেজ এবং মাটিতে থাকা হেলিকপ্টারে সেনা সদস্যদের ওঠার সাদাকালো ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষণাটি দক্ষিণ আমেরিকায় অপরাধী চক্র এবং মাদক চোরাচালান রুটের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ বলে মনে হচ্ছে।
ইকুয়েডর অভিযানের পরিধি এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, এটি এখন পর্যন্ত রসদ এবং গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ইকুয়েডরীয় সেনাদের সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই যৌথ অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে মাদক-সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছি, যারা দীর্ঘকাল ধরে এই গোলার্ধের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দুর্নীতি চাপিয়ে দিয়েছে।’
সূত্র: আলজাজিরা।
