মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর কিউবার দিকে নজর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের পরিস্থিতি শেষ হলেই কিউবার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্প্রতি ফুটবল ক্লাব ইন্টার মিয়ামির খেলোয়াড়দের হোয়াইট হাউস সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা ইস্যুতে অসাধারণ কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দাবি করেন, কিউবায় যে পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক। তবে বর্তমানে প্রধান মনোযোগ ইরান সংকটের দিকেই বলে জানান ট্রাম্প।
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে, যাতে দেশটির দুর্বল অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবা অনেকাংশে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল ।
তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অভিযানে ভেনেজুয়েলায় যে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়, তার মধ্যে কিউবানরাও ছিল।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমরা নানাভাবে সব অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি। প্রথম মেয়াদে আমি সামরিক বাহিনী গড়ে তুলে তা পুনর্গঠন করেছি, এবং আমরা তা ব্যবহার করছি।
ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বব্যাপী সামরিক ও কৌশলগত তৎপরতা বাড়িয়ে তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব জোরদার করতে চাইছে। ইরান সংকটের পর কিউবাকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরেকটি বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
