বিশ্বব্যাপী তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে শ্রীলংকা সরকার।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য প্রতি সপ্তাহে এক দিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যত কর্মসপ্তাহ চার দিনে সীমাবদ্ধ হচ্ছে। ১৮ মার্চ থেকে বুধবারকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে থেকে দেশটিতে শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। এবার কার্যকর হলো তিন দিন ছুটির নির্দেশনা।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার ডিসানায়েকে সোমবার (১৬ মার্চ) সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বলেন, আমরা সর্বনাশের জন্য প্রস্তুত থাকব, তবে সেরা ফলাফলের আশা রাখব।
নতুন চার দিনের কর্মসপ্তাহটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। তবে স্বাস্থ্যসেবা, বন্দর, জরুরি সেবা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।
সরকার বুধবারকে অতিরিক্ত ছুটির দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে যাতে সরকারি অফিস তিন দিন ধারাবাহিক বন্ধ না থাকে। পাশাপাশি চালক ও গাড়ি মালিকদের জন্য ন্যাশনাল ফুয়েল পাস সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা অনুযায়ী তারা নিবন্ধন করে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবেন।
সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে সম্ভব হলে রিমোট ওয়ার্ক অনুশীলন করার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিভাগের কমিশনার জেনারেল প্রভাত চন্দ্রকীর্তি জানান, আমরা চাই বেসরকারি খাতও আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বুধবারকে ছুটি ঘোষণা করুক।
কলম্বোর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২২ সালের মতো তেলের সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জনসমাজে বিশৃঙ্খলা পুনরায় না ঘটুক।
হরমুজ প্রণালী, যা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথের একটি সংকীর্ণ কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, সেখানে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সরবরাহ খাতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তেলের দাম বাড়াচ্ছে এবং আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের সমান্তরাল পদক্ষেপ
শ্রীলঙ্কা একা নয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোরও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে:
থাইল্যান্ড: অফিসে শর্ট-স্লিভ শার্ট পরার আহ্বান, যা এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার কমাবে।
মায়ানমার: গাড়ি চালনার জন্য বিকল্প দিনের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা চালু।
বাংলাদেশ: রমজানের ছুটি আগেভাগে ঘোষণা ও পরিকল্পিত ব্ল্যাকআউট।
ফিলিপাইনস: দূরশিক্ষণসহ নমনীয় কাজের ব্যবস্থা, সরকারি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ এবং জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা।
ভিয়েতনাম: সাইক্লিং, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানোয় উৎসাহ।
শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের সমান্তরাল উদ্যোগগুলোই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেল ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এমন নীতি অবলম্বন করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
