যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগকে ‘ভালো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেন্ট নিরাপত্তা ইস্যুতে ‘খুবই দুর্বল’ ছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তার বিবৃতি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে, তিনি পদত্যাগ করেছেন—এটা ভালোই হয়েছে। কারণ তিনি বলেছেন, ইরান কোনো হুমকি ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের প্রতিটি দেশই বুঝেছে ইরান কতটা বড় হুমকি। প্রশ্ন ছিল—তারা এ বিষয়ে কিছু করতে চায় কিনা।’
উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন এনসিটিসি প্রধান জোসেফ কেন্ট। পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা এক পদত্যাগপত্রে কেন্ট বলেন, ‘আমি বিবেকের তাড়নায় ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং স্পষ্ট যে ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।’
পদত্যাগপত্রটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করেন।
কেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিকেই ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং মার্কিন গণমাধ্যমের প্রভাবশালী কিছু অংশ ভুল তথ্য ছড়িয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে দুর্বল করে দেয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করে।
তার ভাষায়, ‘এই তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে আপনাকে (ট্রাম্পকে) বিভ্রান্ত করা হয়েছে—যাতে মনে হয় ইরান তাৎক্ষণিক হুমকি এবং এখন আঘাত হানলে দ্রুত বিজয় সম্ভব। এটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল অতীতেও একই কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক যুদ্ধ-এ জড়িয়েছিল, যার ফলে হাজারো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটে। কেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আবার সেই ভুল করতে পারি না।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগেই জোসেফ কেন্টের বিরুদ্ধে শ্বেত জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল।
সূত্র: আল-জাজিরা
