যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনীতিকদের বিদেশি সরকারগুলোকে একটি বিশেষ অনুরোধ জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দেশগুলোকে এই আহ্বান জানাতে বলেছেন, যেন তারা ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতে ‘দ্রুত পদক্ষেপ নেয়’, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশ ও নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে না পারে। ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে ‘হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির’ মুখে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অসম যুদ্ধের ১৮তম দিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এমন একটি গোপন বার্তা ফাঁস হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আদেশটি সোমবার (১৬ মার্চ) সব কূটনৈতিক ও কনস্যুলার পোস্টে একটি ‘অ্যাকশন রিকোয়েস্ট’ হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘আইআরজিসির কার্যক্রম নিয়ে উচ্চতর উদ্বেগ’। এখানে আইআরজিসি বলতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে বোঝানো হয়েছে।
নির্দেশনাটিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে যে, বার্তাটি—যা সংবেদনশীল কিন্তু গোপনীয় নয় —আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘সর্বোচ্চ উপযুক্ত পর্যায়ে’ পৌঁছে দিতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি জোট গঠনের জন্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানান, সাহায্য করতে সম্মত হওয়া দেশগুলোর একটি তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
কূটনীতিকদের পাঠানো রুবিওর বার্তায় ইরান বা তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে—এই হুমকি মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপই সেরা কৌশল।
গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা মূল্যায়ন করেছি যে, একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রতি ইরানি শাসনব্যবস্থা বেশি সংবেদনশীল। একতরফা পদক্ষেপের তুলনায় যৌথ চাপ এই শাসনের আচরণ পরিবর্তনে বাধ্য করার সম্ভাবনা বেশি।’
এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ও বিশ্বজুড়ে ইরানের ‘সন্ত্রাসবাদী প্রচারণা’ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন এখন নিবদ্ধ, তখনই আমাদের কাজ করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিকে হাতছাড়া হতে দেবেন না।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন। আইআরজিসি, হিজবুল্লাহ ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সরকারগুলোকে অস্থিতিশীল করে এবং আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করে।’
গোপন বার্তাটিতে কূটনীতিকদের আরও কিছু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকি মিলিশিয়াদের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ইরানি শাসনের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে—যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করা, প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের নৌ-সক্ষমতা কমিয়ে আনা।’
বার্তায় আরও বলা হয়, ‘কূটনৈতিক পোস্টের নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে, এই প্রচারণামূলক প্রচেষ্টাগুলো ইসরাইলি কূটনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো উচিত।’
তবে এতে যোগ করা হয় যে, আলোচনার মূল পয়েন্টগুলোর কোনো লিখিত নথি সেখানে ফেলে আসা যাবে না।
অতিরিক্তভাবে, যেসব দেশ এখনও আইআরজিসি এবং হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি, সেসব দেশের কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের নিজ নিজ সরকারকে ‘দ্রুত’ তা করার জন্য উৎসাহিত করেন। এর সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও তাদের দেওয়া হয়েছে।
গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, এ ধরনের তালিকাভুক্তি ইরানি শাসনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ অর্থায়ন করার ক্ষমতাকে সীমিত করবে, যা আপনাদের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিঘ্নিত করে।
এতে আরও বলা হয়, আইআরজিসি সরাসরি বিদেশের মাটিতে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ও ‘গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র’ পরিচালনা করেছে এবং ক্রমাগত গোয়েন্দাগিরি ও প্রভাব বিস্তারের অপকৌশলে লিপ্ত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রগুলো মূলত জনগণকে আতঙ্কিত করতে এবং আপনাদের ক্ষতি করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ।
