ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জানিয়েছেন, তাদের মজুত থাকা সব তেল ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের তেল খাতের ওপর বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা ইরানি তেল বিক্রির জন্য একটি অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট শুক্রবার (২০ মার্চ) জানান, বর্তমানে সাগরে আটকে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।
মার্কিন প্রশাসনের এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) উপহাস করে লিখেন, সাগরে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন? দুঃখিত—আমাদের সব তেল বিক্রি হয়ে গেছে।
গালিবাফের এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে তেহরান ওয়াশিংটনের এই অস্থায়ী ছাড়কে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তারা বিকল্প উপায়ে তাদের জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো, কিন্তু ইরানের সরাসরি প্রত্যাখ্যানে সেই পরিকল্পনা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
