ইতালির সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রথম বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই পরাজয়ের পর মেলোনির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ইতালির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
পরাজয় ও বিরোধীদের চাপ
মেলোনি ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই বর্তমান জোট সরকারের প্রথম উল্লেখযোগ্য পরাজয়। আর এই ফলাফলকে পুঁজি করেই বিরোধী দলগুলো মেলোনিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি এলি শ্লিন একে একটি ‘বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
মেলোনির সামনে সম্ভাব্য পথসমূহ
গণভোটের এই ফলাফলের পর প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সামনে মূলত তিনটি পথ খোলা আছে:
১. কুইরিনালে সফর ও আস্থা যাচাই: সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার সঙ্গে দেখা করার। ২০১৬ সালে মাত্তেও রেনজি গণভোটে হেরে পদত্যাগ করেছিলেন, তবে মেলোনির ক্ষেত্রে পদত্যাগের সম্ভাবনা কম। প্রেসিডেন্ট তাকে পার্লামেন্টে পুনরায় ‘আস্থা ভোট’ গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন।
২. আগাম নির্বাচনের চিন্তা: সংবাদমাধ্যম রেপুব্লিকা-র মতে, মেলোনি একটি দুর্বল অবস্থানে থেকে সরকারের শেষ বছর পার করার চেয়ে আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছেন। এর মাধ্যমে তিনি অগোছালো অবস্থায় থাকা বিরোধীদের চমকে দিতে চান।
৩. নতুন নির্বাচনি আইন: বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নতুন নির্বাচনি আইন। বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে বিরোধীদের উত্থান দেখে মেলোনি এমন একটি আইন চাইছেন যেখানে বিজয়ী জোটকে বড় ধরনের ‘মেজোরিটি বোনাস’ দেওয়া হবে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গণভোটের এই ফলাফলকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করছে। আর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি একক আসনের পরিবর্তে জোটভিত্তিক শক্তিশালী বোনাস ব্যবস্থার দাবি তুলছে।
এমতাবস্থায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই নির্বাচনে গিয়ে বিরোধীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন ইতালির প্রথম ও একমাত্র এই নারী প্রধানমন্ত্রী।
ভবিষ্যৎ কী?
আপাতত প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও মেলোনিকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে পার্লামেন্টে এবং জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো অটুট। বিরোধীদের নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়ার আগেই তিনি কোনো বড় চাল চালেন কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ভি নিউজ
