মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আর এর মধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বুধবার সকালেও সৌদি আরব ও কুয়েত জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইন—এই দেশগুলিও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে, তখনই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে আঘাত হানে। পরবর্তীতে ওই হামলার জন্য কিছু দেশের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছিল তেহরান।
তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো কেন অব্যাহত—সে বিষয়ে বিশ্লেষণ দিয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-আশার। তার মতে, ইরান এই অঞ্চলের নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, সেটিকে দুর্বল করতে চাইছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস খাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, যা ইরানের কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হতে পারে।
একই সঙ্গে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান তার আরব প্রতিবেশীদের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বলেও মনে করা হচ্ছে। যাতে তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সূত্র: বিবিসি
