চীনের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (এসএমআইসি) ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে চিপ তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এসএমআইসি প্রায় এক বছর ধরে ইরানে এসব সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, শুধু সরঞ্জাম নয়, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণও এই সহযোগিতার অংশ হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সরঞ্জামগুলোর উৎস নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে যদি এগুলোর উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানে রপ্তানি করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
চীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এসএমআইসিকে বাণিজ্যিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ নেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নতুন এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে চীনের উন্নত চিপ শিল্পকে সীমিত করার চেষ্টা করছে—ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে খবরে বলা হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করে।
চিপ তৈরির এসব সরঞ্জাম ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সরাসরি কী প্রভাব ফেলেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এগুলো সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, চীনের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসএমআইসিসহ চীনা চিপ নির্মাতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো তাদেরকে লাম রিসার্চ, কেএলএ এবং অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালসের–এর মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উন্নত যন্ত্রপাতি থেকে দূরে রাখা।
২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এসব বিধিনিষেধ আরও কঠোর করে। বিশেষ করে হুয়াওয়ের মেট-৬০ প্রো স্মার্টফোনের জন্য উন্নত চিপ তৈরির পর এসএমআইসির আধুনিক কারখানাগুলোতে মার্কিন পণ্য সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
