মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া তেহরানকে ‘আংশিকভাবে’ সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খবর আল জাজিরার।
রাশিয়া ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান শনাক্ত করার জন্য উন্নত স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই কাজে মূলত রাশিয়ার একমাত্র সচল গুপ্তচর স্যাটেলাইট ‘লিয়ানা’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইটও এক মিটার রেজোলিউশনের ছবি সরবরাহ করতে সক্ষম, যা মস্কো ও তেহরানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়কে সহজ করছে।
যদিও পেন্টাগন আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরীতে হামলার খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ যুদ্ধের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে এমনটাও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অস্ত্র ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান দ্বিমুখী। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করলেও, এখন সেই ড্রোনের আধুনিক সংস্করণ ইরানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ, ১ মার্চ সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি জ্যামিং-প্রতিরোধী নেভিগেশন মডিউল পাওয়া গেছে, যা ড্রোনকে ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যেভাবে ড্রোন ও নকল লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা বিভ্রান্ত করেছিল, একই কৌশল এখন ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে।
যদিও রাশিয়া ও তেহরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরাসরি এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবে না।
সূত্র: আল জাজিরা
