করাপশন টক
সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল, এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধস

editor
মার্চ ৩০, ২০২৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ।

দশকের ভয়াবহতম এই জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন স্থল অভিযানের আশঙ্কার খবর।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা যে কোনো মার্কিন স্থল হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত। তেহরান অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথিরা প্রথমবারের মতো ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং লেবাননে ইসরাইলি অভিযান সম্প্রসারিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনার প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে এই পথটি কার্যত অচল থাকায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নৌ-চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দাম কমার সম্ভাবনা নেই। অনেক দেশ ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে ইরান যদি সমুদ্রপথের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ না সরায়, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। যদিও ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন, তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের এই ঘাটতির প্রকৃত প্রভাব কেবল অনুভূত হতে শুরু করেছে। ওনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যানের মতে, ইউরোপ এবং অন্যান্য অঞ্চলে তেলের প্রকৃত সংকট আরও প্রকট হবে এবং দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যদিও পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো কয়েকটি দেশের পতাকাবাহী জাহাজকে ইরান যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ যাতায়াত করছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।