ইরানের হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রকে চিন্তায় ফেলা কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর আঘাতের কারণে তাংসিরির মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দাবি করেছিলেন, ইসরাইলি বাহিনীর পরিচালিত একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে এক হামলায় তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পরিকল্পনায় তাংসিরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এক মাসব্যাপী যুদ্ধের পর স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও, ইরানে আক্রমণের জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, উপসাগরীয় দ্বীপগুলো দখল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা বলছেন, সেনারা সহজে দ্বীপে পৌঁছাতে পারলেও পরে গুলি বর্ষণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়তে পারেন, যেখানে সরবরাহের শৃঙ্খল দুর্বল এবং লক্ষ্য অস্পষ্ট হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো হামলা শুরু হলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে, অর্থাৎ রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করা হবে। এরপর বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার প্রস্তুতিমূলক অভিযান শুরু হবে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে খারগ দ্বীপ অন্যতম, যা থেকে ইরান তার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এছাড়া আবু মুসা দ্বীপ এবং আশপাশের ছোট দ্বীপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। কেশম দ্বীপও বড় লক্ষ্য হতে পারে, যেখানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণে টানেল তৈরি করেছে এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমুদ্রপথের তুলনায় আকাশপথে অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বেশি। ইরান হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখায় বড় জাহাজ নিয়ে প্রবেশ কঠিন। তাই হেলিকপ্টার বা বিশেষ বিমান ব্যবহার করে সৈন্যকে দ্রুত দ্বীপে নামানো হতে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি
