ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার একটি ইসরাইলি বিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একে ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার পরবর্তী পদক্ষেপ’ এবং বর্ণবাদী কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে তালিব বলেন, ‘সম্পূর্ণ জাতিগত ভিত্তিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই গণমৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা’ বর্ণবাদেরই নামান্তর।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা ‘ইতোমধ্যেই ইসরাইলি কারাগারে পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের—বিশেষ করে গাজার বন্দিদের ওপর অপরাধের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে অনাহার, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও পদ্ধতিগতভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা।
এই বিল অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের অনুরোধ ছাড়াই এবং সর্বসম্মতিক্রমে না হয়ে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হবে।
ইসরাইল-দখল করা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিচারকারী সামরিক আদালতগুলোকেও এই সাজা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিচারিক প্যানেলের কাছে মতামত পেশ করার অধিকার পাবেন।
ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা যেসব ফিলিস্তিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, এই বিলের মাধ্যমে তাদের ক্ষমা চাওয়া বা আপিল করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলের ভেতরে যাদের বিচার করা হবে, তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা যেতে পারে।
ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।
