সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ভিকটিমকে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের একটি আভিযানিক দল। গত ০১/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন সাভার ডিওএইচএস এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫), পিতা- মো. আব্দুল কুদ্দুস, সাং-গ্রাম- মির্জানগর, থানা- বিরল, জেলা- দিনাজপুর।
ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা আশুলিয়া (ঢাকা) থানায় মামলা নং-৫২, তারিখ: ১৭/০৩/২০২৫ খ্রি., ধারা- পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) তদন্তকালীন আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫)কে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। এসময় প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত আলামত ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থী মর্মে জানা যায়। ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট আইডিকে টার্গেট করে সুকৌশলে নিজেদের আয়ত্তে এনে আইডি থেকে ব্ল্যাকমেইলিং করার মত বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করার ব্ল্যাকমেইলিং ও ক্রমাগত চাপে রেখে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করে নিত এ চক্রটি।
মামলাটি তদন্তকালীন জানা যায় যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীকে নক দিয়ে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। ক্রমাগত হুমকিতে মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার ভয় দেখিয়ে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর নিকট বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তদন্তকালীন প্রাপ্ত তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫)কে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় ব্ল্যাকমেইলিং এর কাজে ব্যবহৃত ০২ টি মোবাইল ফোন এবং ০২ টি সিম কার্ড জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫) ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সুকৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করার অভিযোগ স্বীকার করেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতারকৃতকে ০৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধের পাশাপাশি কোনো ধরনের ডিভাইস বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও সংরক্ষণ বা শেয়ার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।
