করাপশন টক
সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ: সিআইডির অভিযানে চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

editor
নভেম্বর ২১, ২০২৫ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ দুপুরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মুন্সীরহাট বাজার এলাকা থেকে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (CPC) ইউনিট। ধৃতরা হলো মো. পেয়ার আহমেদ (২৪), পিতা মো. শাহা আলম, মাতা মোসা. পেয়ারা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা সাং-কাদঘর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা এবং মোহাম্মদ আলী (৪২), পিতা মমতাজ উদ্দীন, মাতা মনোয়ারা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা সাং-চানপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা। চক্রটি ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন ও অনলাইন ট্রেডিংয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি নিজেদেরকে মালয়েশিয়া ভিত্তিক “Brand Soul Digital Marketing” এবং এর বাংলাদেশি এজেন্ট “TASK BD Online Trade” এর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিত। তারা ভুক্তভোগীদের টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রলোভন দেখাত যে, ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন এবং অনলাইন ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যাবে।

প্রথমে প্রতারকরা ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জনের জন্য ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন বা ছোট অনলাইন ট্রেডিং বিনিয়োগের মাধ্যমে সামান্য অঙ্কের মুনাফা প্রদান করে লোভ দেখাত। ভুক্তভোগীরা প্রতারকদের উপর আস্থা স্থাপন করলে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া শুরু করতো। এই টাকা সাধারণত বিকাশ বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে নেওয়া হতো। আশু প্রতারণার শীকার এসসকল ভিকটিমদের ক্রমান্বয়ে বিশ্বাস বাড়তে থাকে যে সবকিছু বৈধ এবং নিরাপদ। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ উক্ত বিনিয়োগের প্রকৃতি যাচাই করার চেষ্টা করলে, প্রতারকরা অমূলক নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতো। চুড়ান্তভাবে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর, প্রতারকরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করত এবং গ্রুপ বা মেসেঞ্জার অ্যাপ থেকে সরিয়ে দিত। তখন ভুক্তভোগীদের আর বুঝতে বাকি থাকতো না যে তারা জালিয়াতীমূলক বিনিয়োগের শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ।

এভাবে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারকদের প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগী একজন ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন ও অনলাইন ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হন এবং প্রথমে সামান্য মুনাফা প্রদান করার পর, উক্ত প্রতারক চক্রটি ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে মোট ২,৭৪,৮১৬/- টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হয়ে উক্ত ভুক্তভোগী বাড্ডা থানার মামলা নং- ০৮ তাং- ০৬/০৫/২০২৫ খ্রি. ধারা- ৪০৬, ৪২০ পেনাল কোড রুজু করেন। মামলার তদন্তভার সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (CPC) গ্রহণ করার পর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মো. পেয়ার আহমেদ ও মোহাম্মদ আলীর অবস্থান শনাক্তপূর্বক গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের নিকট থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা WhatsApp ও Telegram ব্যবহার করে প্রতারণা করত এবং প্রতিটি লেনদেন থেকে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ পেত। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের অন্য একটি অংশ দুবাই ও সৌদি আরব থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মামলাটির পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণামূলক অনলাইন অফার থেকে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।