দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) ৩টি অভিযোগের বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
👉 অভিযান ০১:
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে টিম বাস্তবায়নাধীন শিববাটি সেতুর নিচ হতে কাজীর বিল গেট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের এস্টিমেট, মিজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল অব এন্ট্রি সহ সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনা করে। সড়ক নির্মাণ কাজের মান যাচাই ও বাস্তব অবস্থা নিরূপণের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি টিম নিয়োগপূর্বক সরেজমিনে পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে টিম রাস্তার বিভিন্ন অংশের পরিমাপ গ্রহণ করে এবং ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে। রাস্তার দৈর্ঘ্য পরিমাপকালে প্রাক্কলন অনুযায়ী মোট নির্ধারিত দৈর্ঘ্য (২,১৯০ মিটার) -এর তুলনায় বাস্তবে প্রায় ৫০ মিটার কম পাওয়া যায়। অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র যাচাই, নির্মাণ সামগ্রীর নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং নিরপেক্ষ প্রকৌশল টিমের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনাসাপেক্ষে এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
👉 অভিযান ০২:
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নওগাঁ হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টিম ছদ্মবেশে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে ভর্তিকৃত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কথা বলা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা সংক্রান্ত তালিকা সংগ্রহ করা হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
👉 অভিযান ০৩:
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) -এ ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুস দাবি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ কর্তৃক সিডিএ ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয় যে, চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া মৌজার সৈয়দ শাহ রোডস্থ মোট ১৩৭৫.৫৩ বর্গমিটারের প্লটে দুটি বেইজ ও ১৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দাখিলকৃত নকশা যথানিয়মে ইমারত নির্মাণ কমিটি-১ এর ১৪৮ তম সভায় অনুমোদিত হলেও নথির নোটাংশের ১২ নম্বর প্যারা খালি রেখে পরবর্তী প্যারায় ভিন্ন বিষয়ে অবতারণা করে অদ্যাবধি ভবন নির্মাণ অনুমতিপত্র জারি করা হয়নি। দাবিকৃত ঘুসের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এ উদ্দেশ্য হয়রানি করা হচ্ছে মর্মে আবেদনকারী দুদক টিমের নিকট অভিযোগ জানান। এ সংক্রান্তে সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুস দাবি ও অনিয়মের বিষয়টি বিস্তারিত যাচাইয়ের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণপূর্বক টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।
